পাহাড়ে পৌঁছতে পারলেন না মুখ্যমন্ত্রী, উত্তরকন্যায় চার ঘণ্টার বৈঠক!

বন্যা মোকাবিলা থেকে স্বাস্থ্য, রেল-বিমানবন্দর-বিএসএফ একাধিক ইস্যুতে বড় সিদ্ধান্ত

শিলিগুড়ি: প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কালিম্পংয়ে পৌঁছতে পারলেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাঝ আকাশ থেকেই চপার ঘুরিয়ে শিলিগুড়িতে ফিরে আসতে হয় তাঁকে।

এরপর উত্তরকন্যায় বসে টানা প্রায় চার ঘণ্টার বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, রেল, বিমানবন্দর, বিএসএফ, পাহাড়ের পরিকাঠামো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশাসনিক পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার একদিনের ঝটিকা সফরে উত্তরবঙ্গে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পর চপারে কালিম্পংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কিন্তু পাহাড়ে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চপার অবতরণ করতে পারেনি। বেশ কিছুক্ষণ আকাশে চক্কর দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ির দিকে ফিরে আসে সেটি।

পরে উত্তরকন্যার পাশের ভিডিওকন গ্রাউন্ডে অবতরণ করে চপার। সেখান থেকে সড়কপথে উত্তরকন্যায় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী।

বেলা প্রায় দুটো থেকে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত চলে দীর্ঘ বৈঠক। বৈঠকে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় সমস্ত এইচওডি ভার্চুয়ালি যোগ দেন। পাশাপাশি রেল, বিমানবন্দর, বিএসএফ- সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরের আধিকারিকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আগের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলির কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি। মালদার ভূতনির পরিস্থিতি নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গের যে কোনও এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত মোকাবিলার জন্য এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ- কে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেল, বিমানবন্দর ও বিএসএফের জমি ও নির্মাণ সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যাও বৈঠকে আলোচনায় আসে।

রাজ্য ও কেন্দ্রের আধিকারিকদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা করিয়ে আটকে থাকা সমস্যাগুলির সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।

পাহাড়ের জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।

কালিম্পংয়ে যেতে না পারায় মুখ্যমন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করেছেন ও খুব দ্রুত পাহাড় সফরে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার আওতায় পাহাড়ে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা করা হয়েছে।

এনএইচপিসির সঙ্গে যৌথভাবে এই কাজগুলি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

উত্তরকন্যা থেকেই যাতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন দপ্তরের কাজ আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায় ও প্রতিটি বিষয়ে কলকাতায় ছুটতে না হয়, সেই বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, কোচবিহার, মালদা-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়েও আলোচনা হয়। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে ভিডিওকন গ্রাউন্ড হয়ে চপারে বাগডোগরা যাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে কিছু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সড়কপথেই বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here