কলকাতা: কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি বিশাল লোহার গোডাউনের শেড ভেঙে পড়ার ঘটনায় যেন থমকে গিয়েছে গোটা রাজ্য।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের আর্তনাদ ঘিরে তৈরি হয়েছে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
ইতিমধ্যে ১৩-১৪ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে এসএসকেএম ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে ধ্বংসস্তূপের বিশাল আকার সহ টন টন লোহা ও কংক্রিটের নিচে বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকেই গোডাউনের লোহার কাঠামো নড়বড়ে অবস্থায় ছিল।
কয়েকজন শ্রমিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উপরে উঠেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।
কিন্তু সতর্কবার্তার মাঝেই আচমকা ভেঙে পড়ে বিশাল কাঠামোটি। ফলে মুহূর্তের মধ্যে কর্মচঞ্চল নির্মাণস্থল পরিণত হয় মৃত্যুফাঁদে।
উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে পৌঁছতে বিশেষ ‘ভার্টিক্যাল ড্রিলিং’ পদ্ধতিতে সুড়ঙ্গ তৈরির চেষ্টা চলছে।
একইসঙ্গে ভারী ক্রেনের সাহায্যে সরানো হচ্ছে বিশাল লোহার বিম ও কংক্রিটের অংশ।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। উদ্ধারকাজের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে, ধ্বংসস্তূপের বাইরে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা।
কেউ ফোনে প্রিয়জনের খোঁজ করছেন, কেউ আবার উদ্ধারকারী বাহিনীর দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করছেন – ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষগুলো যেন জীবিত অবস্থায় ফিরে আসেন।
তারাতলার এই দুর্ঘটনা শুধু একটি নির্মাণস্থলের বিপর্যয় নয়, বরং শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে এক বড় প্রশ্নও তুলে দিল।
এখন সকলের নজর উদ্ধার অভিযানের দিকে, আর প্রার্থনা একটাই – আরও প্রাণহানি যেন না ঘটে।















































