কলকাতায় এক ছাদের তলায় ডিআরএটি ও ডিআরটি, ঋণসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তিতে বাড়বে সমন্বয়!

কলকাতা: ঋণসংক্রান্ত মামলার বিচার ও দ্রুত নিষ্পত্তি আরও কার্যকর করতে কলকাতায় ঋণ পুনরুদ্ধার আপিল ট্রাইব্যুনাল (DRAT) ও তার অধীনস্থ ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনালগুলিকে এক ছাদের তলায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হল।

এর ফলে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান সহ ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে যুক্ত মামলাগুলির বিচারপ্রক্রিয়ায় সমন্বয় আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার কলকাতার জীবন সুধা ভবনে ঋণ পুনরুদ্ধার আপিল ট্রাইব্যুনালের নতুন কার্যালয়ে কার্যক্রম শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এবার থেকে কলকাতা ডিআরএটি ওই বহুতল ভবনের দশম তলায় কাজ করবে।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের কার্যালয় ছিল ৯, ওল্ড পোস্ট অফিস স্ট্রিটে। অনুষ্ঠানে ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির দ্রুত ঋণ পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা ও বিপুল আর্থিক স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯৩ সালে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হয়।

পরবর্তীতে আইনের নাম পরিবর্তন করে ঋণ পুনরুদ্ধার ও দেউলিয়াত্ব আইন, ১৯৯৩ করা হয়। এই আইনের অধীনেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির ঋণসংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ব্যবস্থা করা হয়।

আইনি কাঠামো অনুযায়ী সারা দেশে ডিআরটি গঠন করা হয় ও তাদের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য রয়েছে ডিআরএটি।

কলকাতা ঋণ পুনরুদ্ধার আপিল ট্রাইব্যুনালের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালের ২৪ জুন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের যাত্রায় ঋণ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তিতে এই ট্রাইব্যুনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কলকাতা ডিআরএটির অধিক্ষেত্রও যথেষ্ট বিস্তৃত।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের অধীনস্থ ডিআরটির দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানিও এই ট্রাইব্যুনালে হয়।

বর্তমানে কলকাতা ডিআরটি-১, ডিআরটি-২ ও ডিআরটি-৩ ছাড়াও কটক, গুয়াহাটি, হায়দ্রাবাদ, বিশাখাপত্তনম ও শিলিগুড়ির ডিআরটিও কলকাতা ডিআরএটির অধিক্ষেত্রের আওতায় রয়েছে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অনিল কুমার শ্রীবাস্তবের সভাপতিত্বে কলকাতা ডিআরএটি ঋণ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল আইনি প্রশ্নের শুনানি করে আসছে।

ব্যাংকের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের আইনগত অধিকার রক্ষা এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও ট্রাইব্যুনালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

নতুন কার্যালয়ে ডিআরএটি ও সংশ্লিষ্ট ডিআরটিগুলির কার্যক্রম একই ভবনে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ব্যাংক ও ঋণসংক্রান্ত মামলায় যুক্ত আইনজীবীদের কাজ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালগুলির মধ্যে প্রশাসনিক ও বিচারিক সমন্বয় বাড়বে ও মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here