নদিয়া: ক্যানভাসে রং-তুলির আঁচড় নয়, সিল্কের জামদানি বুননেই ফুটে উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখ।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে নদিয়ার ফুলিয়ায় তৈরি হয়েছে অভিনব এই জামদানি ওয়াল হ্যাঙ্গিং। বাংলার তাঁতশিল্পীদের পক্ষ থেকে তৈরি এই শিল্পকর্মটি উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত তাঁতশিল্পী বীরেন কুমার বসাকের পরিকল্পনায় তাঁর দলের তাঁতশিল্পী বিবেক বিশ্বাস এই বিশেষ লাইন-আর্ট প্রতিকৃতিটি তৈরি করেছেন। শিল্পকর্মটি সম্পূর্ণ করতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ দিন।
এই কাজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, এটি কোনও আঁকা ছবি নয়। কোড়া সিল্কের ওপর কটন সুতো দিয়ে বুটি তুলে জামদানি বুননপদ্ধতিতে তৈরি হয়েছে পুরো প্রতিকৃতি। নিখুঁত বুননের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বীরেন কুমার বসাকের ছেলে অভিনব বসাক জানান, তাঁদের দলের মাধ্যমেই এই শিল্পকর্মটি তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বাংলার তাঁতশিল্পীদের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছে। বিক্রির জন্য নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
জানা গিয়েছে, কুরিয়ারের মাধ্যমে শিল্পকর্মটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পাঠানো হয়েছে।
তবে জামদানিতে লাইন-আর্টের মাধ্যমে প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার কাজ এই প্রথম নয়।
২০১৬-১৭ সাল নাগাদ জামদানিতে নতুনত্ব আনার ভাবনা থেকে প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি তৈরি করেছিলেন বীরেন কুমার বসাকের দল। পরবর্তী সময়ে স্বামী বিবেকানন্দ-সহ একাধিক মনীষীর প্রতিকৃতি এবং নানা ধরনের লাইন-আর্ট জামদানির বুননে ফুটিয়ে তোলা হয়।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার জামদানির বুননে উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিকৃতি। অভিনব বসাকের কথায়, এই কাজের মাধ্যমে বাংলার তাঁতশিল্পের উৎকর্ষ এবং সৃজনশীলতাকে আরও একবার তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁর বাবা বীরেন কুমার বসাক।
উল্লেখ্য, বীরেন কুমার বসাকের তৈরি জামদানি এর আগেও প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছেছে।
২০২১ সালে পদ্ম পুরস্কারপ্রাপকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বীরেনবাবুর কাছ থেকে জামদানি উপহার পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বীরেন কুমার বসাকের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নদিয়ার এই বিশিষ্ট তাঁতশিল্পী তাঁর শাড়িতে ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির নানা দিক ফুটিয়ে তোলেন।
এবার সেই বীরেন বসাকের পরিকল্পনায় জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৈরি হল তাঁর নিজের প্রতিকৃতি।
ফুলিয়ার তাঁতঘর থেকে সেই শিল্পকর্মের গন্তব্য এখন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন।















































