১৫ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা
শিলিগুড়ি: শহরের দীর্ঘদিনের পার্কিং সমস্যা ও যানজট মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন মেলা ময়দানকে ভবিষ্যতে আর নিয়মিত মেলার জন্য ব্যবহার না করে সেখানে স্থায়ী পার্কিং পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূলত বিধান মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত।
বৃহস্পতিবার প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ পার্কিং প্রকল্পের শিলান্যাস করেন পর্যটন ও সংসদীয় বিষয়ক দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ।
প্রদীপ প্রজ্বলন, ফিতা কাটা এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনার বীর বিক্রম রাই, ডিসিপি ট্রাফিক কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ, এসিপি ট্রাফিক সুবীর দত্ত-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা।
শংকর ঘোষ জানান, বিধান মার্কেটের পার্কিং সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এবার বিকল্প পার্কিং ব্যবস্থা তৈরি করে যানজট নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই পার্কিং পরিষেবা শুরু হয়েছে।
বাকি পরিকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করে পুজোর আগেই ব্যবস্থাটিকে আরও পূর্ণাঙ্গ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শিলান্যাস হওয়া প্রকল্পের কাজ আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
এদিন শহরের মধ্যে বড় ভলভো বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। শহরের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় এই বাসগুলিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে ও কাজের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ তারিখে ওই প্রকল্পের উদ্বোধন হওয়ার কথা।
ফুলবাড়িতে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে টোল গেট-সহ একাধিক প্রকল্পের পরিকল্পনার কথাও জানান শংকর ঘোষ।
পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, পুজোর পর শহরে মেলা আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দেওয়া হবে।
যেখানে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, ভবিষ্যতে সেই এলাকাগুলিতেই মেলা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ব বাংলা শিল্পী হাটকেও ভবিষ্যতে মেলা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহারের ভাবনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তবে বিষয়টি এখনও আলোচনাধীন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আলোচনার পরই নেওয়া হবে। দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে অবশ্য এই নিয়মে ব্যতিক্রম থাকবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, অবৈধ নির্মাণ ও রাস্তা দখল করে বেআইনিভাবে ব্যবসা করার বিরুদ্ধেও কঠোর বার্তা দিয়েছেন শংকর ঘোষ।
শহরের যানজট ও নাগরিক সমস্যা কমাতে প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।















































