কলকাতা: বাগুইআটির রঘুনাথপুরে শয্যাশায়ী বলরাম রাজবংশীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে বড়সড় মোড়।
ঘটনায় তাঁর দাদা কৃষ্ণ রাজবংশীকে গ্রেফতার করল বাগুইআটি থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে দাবি, দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে কৃষ্ণ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে বলরামের দীর্ঘদিনের চিকিৎসার খরচ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয় উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে শয্যাশায়ী ছিলেন বলরাম। তাঁর চিকিৎসার পিছনে পরিবারের বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
রবিবার রঘুনাথপুরের বাড়ি থেকে বলরাম রাজবংশীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়।
প্রথমে ঘটনাটি লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সহ আলমারি খোলা অবস্থায় পাওয়ায় সেই সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছিল পুলিশ।
তবে তদন্ত যত এগোয়, পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বিশেষ করে আলমারিতে ভাঙচুরের স্পষ্ট চিহ্ন না থাকা, বাড়ির চাবি কার কাছে ছিল ও ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা।
এরপর বলরামের বাবা, মা ও দাদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর কৃষ্ণ রাজবংশীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
যদিও ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী ও কীভাবে বলরামের মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট-সহ অন্যান্য তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃত কৃষ্ণ রাজবংশীকে আজ বারাসাত আদালতে পেশ করা হয়। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে পুলিশ বলে সূত্রের খবর।















































