শরতের আকাশে কালো মেঘ, বৃষ্টির দাপটে বিপাকে মৃৎশিল্পীরা!

প্রতিমার মাটি শুকোচ্ছে না

পশ্চিম মেদিনীপুর: শরতের নীল আকাশ আর পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘের দেখা নেই। তার বদলে আকাশজুড়ে পুঞ্জীভূত কালো মেঘ, সঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টি। হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন।

তারপরই মর্ত্যে আগমন ঘটবে উমার। কিন্তু দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় চরম সমস্যায় পড়েছেন ঘাটাল, চন্দ্রকোনা ও দাসপুরের মৃৎশিল্পীরা। সময়মতো প্রতিমা তৈরি করে মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়াই এখন তাঁদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই সময় ঘাটাল মহকুমার পালপাড়াগুলিতে ব্যস্ততা তুঙ্গে থাকার কথা। কাঠামোয় মাটি লাগানো, প্রতিমা শুকোনো, রং করা থেকে শুরু করে সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ চলার কথা জোরকদমে।

কিন্তু টানা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ও রোদের অভাবে কার্যত থমকে গিয়েছে সেই কাজ।

মৃৎশিল্পীদের কথায়, স্বাভাবিক রোদে প্রতিমার গায়ে দেওয়া মাটির প্রলেপ শুকোতে সাধারণত দু-তিন দিন সময় লাগে। কিন্তু এবারের আর্দ্র আবহাওয়ায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অনেক প্রতিমার মাটি পুরোপুরি শুকোচ্ছে না। ফলে রং ও অলংকরণের কাজও শুরু করা যাচ্ছে না সময়মতো।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প পদ্ধতির সাহায্য নিচ্ছেন শিল্পীরা। প্রতিমা দ্রুত শুকনোর জন্য কোথাও গ্যাস বার্নার, কোথাও হ্যাজাক কিংবা ব্লোয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার অনেক শিল্পী প্রতিমার সামনে দিনরাত হ্যালোজেন লাইট জ্বালিয়ে কৃত্রিম তাপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাতেও অবশ্য পুরোপুরি সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

ঘাটাল, চন্দ্রকোনা ও দাসপুরের বিভিন্ন পালপাড়ায় এখন তাই উৎসবের ব্যস্ততার পাশাপাশি দুশ্চিন্তার ছাপ। একের পর এক পুজো কমিটি প্রতিমা কবে হস্তান্তর করা যাবে, তা জানতে শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বহু মণ্ডপে ষষ্ঠীর আগেই প্রতিমা পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকৃতির সঙ্গে রীতিমতো লড়াই করে প্রতিমাকে নিখুঁত রূপ দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েই এখন উদ্বিগ্ন মৃৎশিল্পীরা।

তাঁদের একটাই প্রার্থনা – বৃষ্টির দাপট কমুক, মেঘ কাটিয়ে দেখা দিক একটু রোদ।

তাহলেই দ্রুত শুকোবে প্রতিমার মাটি, আর ফিরবে দুর্গাপুজোর শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততার স্বাভাবিক ছন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here