সেপ্টেম্বরের শেষ থেকেই শুরু একাধিক কাজ, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে EVM-এর FLC
কলকাতা: আসন্ন পুরভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও জোরদার করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। EVM-এর ফার্স্ট লেভেল চেকিং (FLC), ভোটার তালিকা প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন, ভোটকর্মী নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহ নির্বাচনী ব্যয় – একাধিক বিষয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত EVM-এর ফার্স্ট লেভেল চেকিং বা FLC চলবে।
EVM-এর চলাচল, FLC ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার জন্য EMMS অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অক্টোবরেই ভোটার তালিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ
২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত হালনাগাদ ভোটার তালিকা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে গ্রহণ করা হবে।
এরপর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ও নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
একইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও MRO-দের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে বলা হয়েচ্ছে
ভোটকেন্দ্রের খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কাজও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
প্রায় ৬৩০০ ভোটকেন্দ্র, প্রয়োজন ৩৭ হাজারের বেশি ভোটকর্মী
পুরভোটে প্রায় ৬৩০০টি ভোটকেন্দ্র প্রয়োজন হতে পারে বলে কমিশনের প্রস্তুতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১+৩ অনুপাতে পোলিং কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মীর ব্যবস্থাও রাখা হবে। সব মিলিয়ে ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোটকর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।
প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি তাঁদের তথ্য যাচাই ও ব্যবস্থাপনার জন্য EMMS পোর্টাল ব্যবহার করা হবে।
মনোনয়ন গ্রহণের স্থান নির্ধারণ সহ রাজনৈতিক দল ও ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও ঝুঁকি মানচিত্রায়নে নজর
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেক্টরভিত্তিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেক্টর অফিসারদের দায়িত্বাধীন ভোটকেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও অন্যান্য প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
ভোটের আগে ঝুঁকি মানচিত্রায়ন (Risk Mapping) ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করবে কমিশন। নির্বিঘ্নে ভোটপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পুরভোটের প্রস্তুতিতে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা পুরসভা নির্বাচন আধিকারিক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট পরিচালনায় কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।















































