শিলিগুড়ি: ইন্দো – নেপাল সীমান্তে জাল ইমিগ্রেশন ‘এক্সিট স্ট্যাম্প’ চক্রের পর্দাফাঁস ও আন্তর্জাতিক নারী পাচার তদন্তে নতুন যোগসূত্রের খোঁজ মিলতে শিলিগুড়ি মহকুমা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দুটি পৃথক ঘটনার তদন্তে উঠে আসছে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ইঙ্গিত, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবপাচার রোধে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সম্প্রতি খড়িবাড়ির পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে দুই থাই নাগরিক মহিলাকে আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (এসএসবি)।
তাঁদের পাসপোর্টে ভারতীয় ইমিগ্রেশনের ভুয়ো ‘এক্সিট স্ট্যাম্প’ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় জওয়ানদের।
জানা যায়, একটি চারচাকা গাড়িতে করে তাঁরা ভারত থেকে নেপালে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় গাড়ির চালক পালিয়ে যাওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরে ইমিগ্রেশন দফতরের সঙ্গে তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই দুই মহিলার নামে কোনও বৈধ এক্সিট স্ট্যাম্প জারি করা হয়নি।
জেরায় তাঁরা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন।
এসএসবি সূত্রে জানা গিয়েছে, পিমচানোক কেটলা ও চিনতারা বুদ্ধাফং নামে ওই দুই থাই নাগরিক গত বছরের জুলাই মাস থেকেই মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে ভারতে অবস্থান করছিলেন।
দিল্লি থেকে বাগডোগরা হয়ে নেপালে পালানোর উদ্দেশ্যেই এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিলিগুড়ির বাসিন্দা কুলদীপ শর্মা নামে এক গাড়িচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তদন্তে উঠে এসেছে, বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত হয়ে নেপালের ভদ্রপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বাগডোগরা সংলগ্ন একটি স্থানে গাড়িতে থাকা এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক নেমে যায় ও সেখান থেকেই পাসপোর্টে জাল সিল মারা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এসএসবির অভিযোগের ভিত্তিতে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ দুই থাই মহিলা ও গাড়িচালককে গ্রেফতার করেছে।
সরকারি নিরাপত্তা সিল জাল করা, প্রতারণা ও অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।
ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
অন্যদিকে, থাইল্যান্ড-যোগ থাকা একটি আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের তদন্তে গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক রবি দেওলিয়াকেও শনিবার শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হয়।
দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা ওই অবসরপ্রাপ্ত সাব-ইনস্পেক্টর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নারী পাচার চক্রের তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি হাতে এসেছে।
সেই সূত্র ধরেই প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের সম্ভাব্য ভূমিকা, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুটি ঘটনাই সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় আন্তর্জাতিক চক্রের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্কের হদিশ মিলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।











































