সরকারি রাস্তা দখল করে হোটেল ব্যবসার অভিযোগ, পুরনিগমের অভিযানে ভাঙল অবৈধ নির্মাণ!

সরকারি রাস্তা দখল করে হোটেল ব্যবসার অভিযোগ, পুরনিগমের অভিযানে ভাঙল অবৈধ নির্মাণ

শিলিগুড়ি: দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি ও রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা একটি স্থায়ী টিনের শেড ভেঙে দিল শিলিগুড়ি পুরনিগম।

বৃহস্পতিবার শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই পুরনিগমের কর্মীরা অবৈধ নির্মাণটি ভেঙে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি রাস্তার উপর স্থায়ী টিনের শেড তৈরি করে গত কয়েক মাস ধরে সেখানে হোটেল ব্যবসা চালানো হচ্ছিল।

এর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি আশপাশে একাধিক বসতবাড়ি থাকায় জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।

খোকন ভট্টাচার্য মার্কেট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এর আগেও পুরনিগম ব্যবস্থা নিয়েছিল।

একবার নোটিশ দেওয়ার পর নির্মাণটি ভেঙে ফেলা হলেও পরে পুনরায় একই স্থানে টিনের শেড তৈরি করে ব্যবসা শুরু করা হয়।

তিনি বলেন, “অবৈধ দখলের কারণে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছিলেন।

জরুরি পরিষেবার গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হচ্ছিল। বহুবার সতর্ক করা হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

এছাড়াও তাঁর অভিযোগ, অবৈধ নির্মাণের সামনে দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিলিগুড়ির বিধায়কের ছবি-সংবলিত রাজনৈতিক পোস্টার লাগিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে পুরনিগমের একাধিক সতর্কবার্তার পরও নির্মাণ সরানো হয়নি বলে দাবি তাঁর।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ঈশ্বরচন্দ্র মিত্তাল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তাঁর দাবি, তিনি সরাসরি পুরনিগমের কাছ থেকে কোনও নোটিশ পাননি। একটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নোটিশ তাঁর হাতে পৌঁছেছিল।

তিনি বলেন, “নোটিশ পাওয়ার পর কিছু সময় চাওয়া হয়েছে। কারণ যেখানে নির্মাণ রয়েছে, সেটি নিজস্ব জমির উপর।

এটি কোনও সরকারি রাস্তা নয়। তাই এটিকে অবৈধ নির্মাণ বলে মনে করেন না।”

রাজনৈতিক নেতাদের ছবি-সহ ব্যানার লাগানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এক বন্ধুর অনুরোধে ওই ব্যানার লাগানো হয়েছিল।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুরনিগমের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ।

তাঁদের দাবি, সরকারি জমি বা রাস্তা দখল করে কোনও ধরনের ব্যবসা বা নির্মাণ চলতে দেওয়া উচিত নয়।

ভবিষ্যতে যাতে ওই স্থানে পুনরায় অবৈধ নির্মাণ না হয়, সে দিকেও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে।

পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি ও রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান আগামী দিনেও চলবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ও সরকারি সম্পত্তি দখলের কোনও ঘটনাই বরদাস্ত করা হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here