শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রসারে মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরা টাউনশিপ সংলগ্ন একটি হোটেলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল পর্যটন স্টেকহোল্ডার সম্মেলন।
সম্মেলনে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিরা পর্যটনের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের নানা প্রস্তাব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, পর্যটন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বরুণ কুমার রায়, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, পর্যটন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর, হোমস্টে মালিক ও হোটেল ব্যবসায়ীরা।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, হোমস্টে, হোটেল, ট্রান্সপোর্ট ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা অতীতে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন ও ভবিষ্যতে সরকারের কাছে কী ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন, তা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, হোমস্টে সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার থেকে ৬টির পরিবর্তে ৮টি কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বিশ্বদরবারে ভারতের পর্যটনকে তুলে ধরছেন, সেই ধারায় পশ্চিমবঙ্গও নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে সাংসদ রাজু বিস্তা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, বাগডোগরা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালের কাজ এগোচ্ছে ও হাসিমারায়ও প্রায় ২৫ একর জমিতে বিমানবন্দর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিলিগুড়ি-দার্জিলিং বিকল্প রাস্তা, রোহিণী রোডের উন্নয়ন, পাহাড়ে একাধিক নতুন রাস্তা নির্মাণ, শিলিগুড়ি- জলপাইগুড়ি মেট্রো প্রকল্পের সমীক্ষা, শিলিগুড়ি রিং রোড, গোরখপুর থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে সহ বাগডোগরা-সেবক-উদলাবাড়ি-জলপাইগুড়ি সংযোগকারী রিং রোডের মতো একাধিক প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এছারাও রাজু বিস্তা দাবি করেন, বর্তমান সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে ও দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের কাজ এগিয়ে চলেছে।
পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল বলেন, নতুন পর্যটনমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যটন শিল্পের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজ্যের পর্যটনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বেশি প্রচারের জন্যও মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
তাঁর দাবি, সঠিক বিপণন হলে আগামী দিনে রাজ্যে পর্যটকের সংখ্যা ১৫ লক্ষ থেকে বেড়ে ৩০ লক্ষে পৌঁছাতে পারে।
হোটেল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, পূর্ববর্তী সময়ে হোটেল শিল্পকে ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যাটাস দেওয়া হলেও সেই অনুযায়ী সুযোগ- সুবিধা, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ভর্তুকির সুবিধা বাস্তবে মেলেনি।
বর্তমান সরকার সেই সুবিধাগুলি কার্যকর করার আশ্বাস দিয়েছে বলে তাঁরা জানান।
এদিনের বৈঠকে শিলিগুড়ির মহানন্দা নদীর তীরে বারাণসীর আদলে ঘাট নির্মাণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
পাশাপাশি, শিলিগুড়িতে পর্যটকদের একদিনের বদলে দুই থেকে তিন দিন অবস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলার বিভিন্ন প্রস্তাবও পর্যটনমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন পর্যটন ব্যবসার প্রতিনিধিরা।












































