রোড কিল শূন্যে, লেপার্ড সংরক্ষণে নতুন নজির! বন দফতরের উদ্যোগে মিলছে সাফল্য!

শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের ঘোষপুকুর রেঞ্জে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছবি সামনে এসেছে।

একসময় যে এলাকা লেপার্ডের রোড কিলের জন্য বারবার শিরোনামে উঠত, সেখানে গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি লেপার্ডেরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বন দফতরের ধারাবাহিক উদ্যোগ ও জনসচেতনতা কর্মসূচির ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ব্রেক ফর ওয়াইল্ডলাইফ’ প্রচারাভিযান, গুরুত্বপূর্ণ করিডরে বাড়তি নজরদারি, চালকদের সতর্কীকরণ সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে।

একসময় যেখানে বছরে ১০ থেকে ১৫টি লেপার্ড গাড়ির ধাক্কায় মারা যেত, সেখানে এখন সেই সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে।

শুধু রোড কিল রোধ নয়, লেপার্ড শাবক সংরক্ষণেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ঘোষপুকুর রেঞ্জ।

চলতি বছরে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আটটি শাবককে সফলভাবে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বনকর্মীদের পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানের ফলে কোনও শাবককে কৃত্রিমভাবে প্রতিপালন করতে হয়নি ও এ বছর একটি শাবকেরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

এর পাশাপাশি নিয়মিত সাপ উদ্ধার করে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া, আহত পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা করে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজও চলছে।

ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতও আগের তুলনায় কমেছে বলে মনে করছেন বনকর্মীরা।

ঘোষপুকুর রেঞ্জের রেঞ্জার সমবর্ত সাধু জানান, বন দফতরের লক্ষ্য শুধুমাত্র বন্যপ্রাণী উদ্ধার নয়, তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে নিরাপদে বেঁচে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করা।

প্রশাসন, বনকর্মী ও সাধারণ মানুষের যৌথ উদ্যোগেই ঘোষপুকুর রেঞ্জ বর্তমানে উত্তরবঙ্গে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের একটি সফল মডেল হিসেবে উঠে এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here