হাসনাবাদ: সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাল্যবিবাহ রোধ, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা সহ প্রান্তিক মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার লড়াইয়ে এক অনন্য নজির গড়েছেন এক সাহসী সমাজকর্মী।
এলাকাবাসীর কাছে তিনি এখন পরিচিত ‘দাবাং দিদি’ নামে।
বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ হিঙ্গলগঞ্জ এলাকার ২২টি পঞ্চায়েত জুড়ে প্রায় ২৬ জন মহিলা কর্মীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে একটি মহিলা সংগঠন।
পিছিয়ে পড়া নারী ও কিশোরীদের উন্নয়নে এই সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই সংগঠনের অন্যতম মুখ এই সমাজকর্মীর জীবনও এক কঠিন সংগ্রামের গল্প।
অত্যন্ত দরিদ্র বিড়ি শ্রমিক পরিবারে জন্ম। মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই বিড়ি বেঁধে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছেন।
গ্রামের প্রথম মেয়ে হিসেবে কলকাতায় গিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে এমএ পাশ করেন তিনি।
২০০৮-০৯ সাল থেকে নারী অধিকার ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে কাজ শুরু করেন।
পথ চলার সময় তাঁকে একাধিকবার হুমকি, অপমান, এমনকি প্রাণনাশের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু কোনও বাধাই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
বাল্যবিবাহ রোধ, বিড়ি শ্রমিকদের পরিচয়পত্র ও শিশুদের জন্মসনদ তৈরি, মহিলাদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এইসব কাজকে জীবনের লক্ষ্য করে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
কিশোরী বাহিনী গড়ে তুলে গ্রামে গ্রামে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করেন ও অভিভাবকদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বোঝান।
সংগঠনের দাবি, গত ১৮ বছরে তাঁর উদ্যোগে শতাধিক বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
সেই কারণেই এলাকার মানুষ স্নেহভরে তাঁকে ‘দাবাং দিদি’ নামে ডাকেন।
আগামী দিনে সুন্দরবনের বুকে এমন কয়েকটি ‘মডেল গ্রাম’ গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য, যেখানে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের কোনও স্থান থাকবে না ও মহিলারা অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রশাসনের তরফ থেকেও তাঁর এই উদ্যোগে সহযোগিতা মিলছে।
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমাজ পরিবর্তনের এই লড়াই অনেকের কাছেই আজ অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।















































