মহিষাদল: রথযাত্রার পবিত্র তিথিতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের ঢলকে সাক্ষী রেখে শুরু হল পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী মহিষাদলের রথযাত্রা।
প্রায় ২৫০ বছরের ইতিহাস বহনকারী এই রথ শুধু বাংলার নয়, দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রথ হিসেবে পরিচিত।
পুরী ও মাহেশের পরেই মহিষাদলের রথের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৭৬ সালে মহিষাদল রাজবংশের রানি জানোকি দেবী সর্বসাধারণের মিলনমেলার উদ্দেশ্যে এই রথ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। যদিও তাঁর আমলে রথযাত্রা শুরু হয়নি।
পরে ১৮০৫ সালে রাজবংশের মতিলাল পাঁড়ে (উপাধ্যায়)-এর সময়ে প্রথমবারের মতো এই রথ গড়ায়।
সময়ের সঙ্গে রথের কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও তার ঐতিহ্য আজও অমলিন।
একসময় ২১ চূড়ার রথ থাকলেও পরে তা ১৭ চূড়া হয়ে বর্তমানে ১৩ চূড়ার রথে রূপ নিয়েছে। রথটির মোট ৩৪টি লোহার পাত মোড়া চাকা রয়েছে।
প্রতিটি চাকার উচ্চতা ৪ ফুট, পরিধি ১২ ফুট এবং বেধ ৮ ইঞ্চি।
রথটির মূল উচ্চতা প্রায় ৫৫ ফুট হলেও কলস ও ধ্বজা দিয়ে সাজানোর পর তা ৭০ ফুটেরও বেশি হয়ে যায়।
এই কারণেই মহিষাদলের রথকে ভারতের সর্বোচ্চ কাঠের রথ হিসেবে ধরা হয়।
মহিষাদলের এই ঐতিহ্যবাহী রথ ‘মদনগোপাল জিউ’-র রথ নামে খ্যাত।
রথে মদনগোপাল জিউর পাশাপাশি বিরাজ করেন জগন্নাথদেব ও মহিষাদল রাজবাড়ির আরাধ্য শালগ্রাম শিলা ‘শ্রীধর জিউ’।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও রথযাত্রাকে ঘিরে ভক্তদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ।
ধর্মীয় আচার, ভক্তিমূলক পরিবেশ ও শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে মহিষাদলের রথযাত্রা আবারও হয়ে উঠেছে বাংলার অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় উৎসব।















































