সিকিমে ধসের জের, তিস্তাপাড়ে সতর্কতা জলপাইগুড়ি প্রশাসনের!

নদীর জলস্তর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন সদর বিডিও, তিস্তায় নামার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা

জলপাইগুড়ি: সিকিমের উত্তর মঙ্গন জেলায় তিস্তা নদীর প্রবাহে ধসের জেরে এবার সতর্ক করা হল জলপাইগুড়ির তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের।

রবিবার বিকেলে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সারদাপল্লী, সুকান্তনগর, বালাপাড়া ও বিবেকানন্দপল্লী এলাকায় প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। একইসঙ্গে তিস্তা নদীর জলস্তরের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন সদর বিডিও বিপ্লব কুমার বিশ্বাস।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলার চুংথাং মহকুমায় চ্যাকুং ও তিস্তা নদীর সঙ্গমস্থলে বড়সড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

ধসের ধ্বংসস্তূপে তিস্তার জলপ্রবাহ আংশিকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলে খবর।

সেখানে জল জমে থাকায় আচমকা সেই জল নীচের দিকে নেমে এলে তিস্তা নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই জলপাইগুড়ির তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে প্রশাসন। মাইকিং করে নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার পাশাপাশি তিস্তায় না নামার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে নদী সংলগ্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের অন্যতম কারণ ২০২৩ সালের অক্টোবরের ভয়াবহ স্মৃতি।

সিকিমের লোনাক হ্রদ বিপর্যয়ের পর তিস্তায় ব্যাপক জলস্ফীতি ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তার প্রভাব পড়েছিল জলপাইগুড়ির তিস্তাপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায়।

ফলে সিকিমে ফের ধসের খবর সামনে আসতেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।

তবে প্রশাসন সূত্রে আশ্বস্ত করা হয়েছে, এই মুহূর্তে জলপাইগুড়ির তিস্তায় জলস্তর স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতির উপর লাগাতার নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সিকিমের পরিস্থিতির পাশাপাশি তিস্তার জলস্তরের পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here