মালদা: গঙ্গার জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনি এলাকায়। চরম বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গা।
কেশরপুরের বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়ায় তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের শতাধিক গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। দুর্লভ টোলা, ভুবন টোলা, কেদার টোলা, মানিকনগর-সহ একাধিক এলাকায় ব্যাপকভাবে জল ঢুকেছে।
প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৬০ হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে ভূতনি থানাতেও জল ঢুকে পড়ায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে থানার পুলিশকর্মীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্রমাগত জল বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই এলাকায় সাতটি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। বাঁধের উপর আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৪০০ পরিবারের হাতে শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয়েছে।
জলবন্দি বাসিন্দাদের উদ্ধারে প্রশাসনের তরফে তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে চাইছেন না। ফলে জলস্তর আরও বাড়লে তাঁদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে প্রশাসনের।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরিস্থিতি সরেজমিনে তদারকিতে মানিকচকে রয়েছেন তিন প্রতিমন্ত্রী।
তাঁদের মধ্যে সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মুও রয়েছেন। মানিকচক থেকেই ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌড় চন্দ্র মণ্ডল।
এদিকে ভূতনিতে অবনতিশীল বন্যা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে এলাকায় বন্যা ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন বিজেপির বিধায়ক। গঙ্গার জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কও বাড়ছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর লাগাতার নজর রাখা হচ্ছে।















































