হানিমুনে বারবিকিউ, মুহূর্তেই বিপত্তি! সিটংয়ে অগ্নিদগ্ধ নববধূ, শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন!

শিলিগুড়ি: হানিমুনে গিয়ে বারবিকিউ করতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ হলেন এক নববধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে দার্জিলিং জেলার সিটং এলাকায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই নববধূ বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

ইতিমধ্যেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জানা গিয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা সৌভিক দাস স্ত্রী নিকিতা সাহাকে নিয়ে হানিমুনে সিটংয়ের একটি হোমস্টেতে যান।

সন্ধ্যায় তাঁরা বারবিকিউ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে হোমস্টে কর্তৃপক্ষের তরফে তার ব্যবস্থা করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের সামনেই বারবিকিউ তৈরি চলছিল। সেই সময় আচমকাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা নিকিতার শরীরের একাধিক অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন তিনি। এরপর তাঁকে গাড়িতে করে শিলিগুড়িতে নিয়ে আসা হয়।

নিকিতার স্বামীর অভিযোগ, শুরু থেকেই হোমস্টেতে অব্যবস্থাপনা ছিল।

তাঁর দাবি, প্রথমে বারবিকিউ করার জন্য দক্ষ কর্মী থাকলেও পরে হোমস্টের এক কর্মী সেই কাজ করতে আসেন।

অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় একসঙ্গে অতিরিক্ত তেল ঢেলে দেওয়ার পরই আচমকা আগুন ভয়াবহ আকার নেয়।

দুর্ঘটনার পরেও হোমস্টে কর্তৃপক্ষের তরফে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিকিতার স্বামী। এমনকি আহতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি ডাকতেও দেরি করা হয় বলে তাঁর দাবি।

তাঁর অভিযোগ, নিকিতার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ওই হোমস্টেতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ঘটনার পর নিকিতার পরিবারের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে, সিসিআই-এর নর্থ বেঙ্গল জোনাল কাউন্সিলের পর্যটন প্যানেলের চেয়ারম্যান সম্রাট সান্যাল জানিয়েছেন, হোমস্টেগুলিতে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে হোমস্টেগুলির নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত অডিট করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

শিলিগুড়িতে দমকল আধিকারিক জানান বারবিকিউ বা আগুন ব্যবহার করে রান্নার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকলে এ ধরনের ঘটনায় বিপদ আরও বাড়তে পারে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here