শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ উন্নয়ন, পঞ্চায়েত পরিকাঠামো ও পাহাড়ি এলাকার প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
শুক্রবার শিলিগুড়ির মৈনাক টুরিস্ট লজে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ রাজ্যের হাতে পৌঁছাতে শুরু করেছে, যার ফলে উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুতগতিতে এগোবে।
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার সহ কোচবিহার জেলার জেলাশাসক, বিডিও ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আবাস যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশন, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, পানীয় জল সরবরাহসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের হাতে ১৭০০ কোটি টাকার তহবিল এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে ও বাকি প্রকল্পগুলির কাজও পর্যায়ক্রমে শুরু হবে।
তিনি বলেন, এই অর্থ উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
বৈঠকে পঞ্চায়েত স্তরে কর্মী সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বহু এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মী ও প্রযুক্তিগত কর্মী না থাকায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য, পর্যাপ্ত জনবল ছাড়া উন্নয়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তাই শূন্যপদ পূরণে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
পাহাড়ি অঞ্চলের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও বিশেষ আলোচনা হয় বৈঠকে।
জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বহু এলাকায় পঞ্চায়েত অফিস, প্রশাসনিক পরিকাঠামো ও কর্মীদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশের অভাব রয়েছে।
ফলে সাধারণ মানুষ নানা পরিষেবা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে পাহাড়ে নতুন পঞ্চায়েত ভবন ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার আশ্বাস দেন দিলীপ ঘোষ।
তিনি বলেন, পাহাড়ে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করে তুলতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় এনে রাস্তা উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
পাশাপাশি জমির পাট্টা প্রদান, জব কার্ডভোগীদের বকেয়া অর্থ ও ভবিষ্যতের অর্থপ্রদান নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দেন তিনি।
সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পাহাড়ি এলাকার প্রশাসনিক পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকারের সক্রিয় উদ্যোগের স্পষ্ট বার্তা মিলল এই বৈঠক থেকে।
উন্নয়নের চাকা আরও দ্রুত ঘোরাতে আগামী দিনে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের ইঙ্গিতও দিয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী।












































