শিলিগুড়ি: বর্ষা আসতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই শিলিগুড়ির জোড়াপানি এলাকায় নদী বাঁধের অসমাপ্ত কাজ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ না হলে বর্ষায় নদীর জল লোকালয়ে ঢুকে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ নদী বাঁধের একটি বড় অংশ এখনও অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
২০২৫ সালের শেষ দিকে কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের পূর্ণতা আসেনি বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীর দাবি, যেখানে কাজ হয়েছে সেখানেও নির্মাণের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বরূপ রায় বলেন, “বাঁধের শুরু ও শেষের অংশে কাজ হলেও মাঝখানের দীর্ঘ অংশ এখনও ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বর্ষায় জল বাড়লে এই অংশ দিয়েই বিপদ দেখা দিতে পারে।”
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অর্থের অভাবের কথা জানানো হয়েছে।
তবে সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন বাসিন্দারা।
তাঁদের বক্তব্য, জননিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রিতা মেনে নেওয়া যায় না।
সমস্যার গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন ও কাউন্সিলর বিবেক সিং।
পরিদর্শনের পর অমিত জৈন জানান, বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব কোন দপ্তরের অধীনে রয়েছে ও কেন ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর বউবাজার পর্যন্ত কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, “বর্ষার আগে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নদীর জল বেড়ে গেলে শুধু জল ঢোকার সমস্যা নয়, বিষাক্ত সাপ ও অন্যান্য প্রাণী লোকালয়ে প্রবেশের আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে জোড়াপানি এলাকার বাসিন্দারা।
তাঁদের আশা, বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই অসমাপ্ত বাঁধের কাজ সম্পূর্ণ করে সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে এলাকাকে সুরক্ষিত করা হবে।












































