মালবাজার: চা-বাগানে স্থায়ী কাজের অভাব, অনিশ্চিত আয় আর পরিবারের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেওয়ার লড়াই এই বাস্তবতাই জলপাইগুড়ির চা-বলয়ের বহু শ্রমিককে প্রতি বছর ভিন্রাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য করে।
সেই জীবিকার খোঁজই এবার পরিণত হল মর্মান্তিক মৃত্যুযাত্রায়।
সিকিমের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনায় কার্যত শোকস্তব্ধ মালবাজার, মেটেলি, নাগরাকাটা ও বানারহাটের একাধিক চা-বাগান।
চার দিন আগেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ভালো থাকার খবর দিয়েছিলেন কিলকোট চা-বাগানের গ্যাব্রিয়েল টিগ্গা।
মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনের ফোনে তাঁর মৃত্যুসংবাদ পৌঁছাতেই ভেঙে পড়ে পরিবার।
একইভাবে বিকেসোর ওঁরাও, শিবা মুন্ডা, অমিত লাল গোরে, শ্যাম ওঁরাও-সহ একের পর এক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পৌঁছাতে থাকে বিভিন্ন চা-বাগানে।
কোথাও স্ত্রীর কান্না, কোথাও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারি, আবার কোথাও ছোট ছোট সন্তানরা এখনও বুঝতেই পারেনি তাদের বাবা আর ফিরবেন না।
পরিবারগুলির দাবি, চা- বাগানের সীমিত মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব নয়।
তাই অতিরিক্ত আয়ের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও যেতে বাধ্য হন শ্রমিকরা।
অনেকেই উৎসবের আগে সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সিকিমে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে।
জেলা পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এক ডিএসপি-স্তরের আধিকারিককে সিকিমে পাঠানো হয়েছে।
আহত রাকেশ মাঝি ও নিসান ওঁরাও বর্তমানে নামচি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, জলপাইগুড়ি জেলার শতাধিক শ্রমিক ওই প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। ফলে এখনও বহু পরিবার উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে এনে দিল চা-বাগান এলাকার দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থানের সংকট।
জীবিকার সন্ধানে ভিন্রাজ্যে পাড়ি দেওয়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।















































