মালবাজার: চা- বাগানে অনিয়মিত কাজ, কম মজুরি আর সংসারের অভাব এই বাস্তবতা থেকেই একটু বেশি আয়ের আশায় প্রতিবছর বহু শ্রমিক ভিন্রাজ্যে পাড়ি দেন।
এবার সেই স্বপ্নই রূপ নিল বিভীষিকায়।
সিকিমের নামচি জেলার সমরদুং এলাকায় নির্মীয়মাণ এনএইচপিসি তিস্তা স্টেজ-VI জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনায় উত্তরবঙ্গের একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে মেটিলি ও নাগরাকাটা ব্লকের বিভিন্ন চা-বাগানে।
মাত্র চার দিন আগে কিলকোট চা-বাগানের ১১ নম্বর লাইনের ২৬ বছরের তরুণ গ্যাব্রিয়েল টিগ্গা বাড়ি ছেড়েছিলেন।
উদ্দেশ্য ছিল বাড়তি রোজগার করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।
কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই ফিরল মৃত্যুসংবাদ।
গ্যাব্রিয়েলের বাড়িতে এখন শুধুই কান্না। ভাইয়ের পরিচয়পত্র নিয়ে সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ছুটছেন দাদা পাস্কেল টিগ্গা।
তিনি বলেন, “চার দিন আগেই ও কাজে গিয়েছিল। ভাবতেই পারছি না আর ফিরবে না।”
একই বাগানের শ্রমিক শিবা মুন্ডার বাড়িতেও একই শোকের ছবি।
স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে কাজ ফেলে ছুটে আসেন স্ত্রী দেবিকা ওরাও।
তাঁর কথায়, “দুপুর ১২টার পর থেকেই ওর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না।”
তিন সন্তানকে নিয়ে এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।
শুধু কিলকোট নয়, নাগেশ্বরী ও ইংডং চা-বাগান থেকেও অমিত লাল গোরে ও শ্যাম ওরাওয়ের মৃত্যুর খবর এসেছে।
আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাকেশ মাঝি।
অন্যদিকে নিসান ওরাওয়ের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়দের দাবি, কিলকোট, ইংডং ও নাগেশ্বরী-সহ আশপাশের চা-বাগান থেকে অন্তত ১৭ জন শ্রমিক ওই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়েছিলেন।
ঘটনার পর মৃত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মেটিলি ব্লকের বিডিও সুমন্ত ভৌমিক, আইসি মৃংমা লেপচা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
বিজেপি নেতা মজনুল হক জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত সিকিমে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে ও প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নামচি জেলার সমরদুং এলাকায় নির্মীয়মাণ টানেলের ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে।
এরপর প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ধস নামে। সেই সময় টানেলের ভেতরে ১৯ জন শ্রমিক, ২ জন প্রকৌশলী ও ৬ জন এনএইচপিসি আধিকারিক সহ মোট ২৭ জন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।















































