চা বাগানের জলাশয়ে বিপত্তি, মা হাতির পর উদ্ধার শাবকও! উঠেই জঙ্গলের পথে ছুট!

আলিপুরদুয়ার: চা বাগানের সেচের জলাশয়ে পড়ে বিপাকে পড়েছিল মা হাতি ও তার শাবক। বুধবার আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম চা বাগান এলাকায় ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে বনদফতর। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর প্রথমে উদ্ধার করা হয় মা হাতিকে। এরপর প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে জলাশয় থেকে নিরাপদে তুলে আনা সম্ভব হয় শাবক হাতিকেও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে কুমারগ্রাম চা বাগানের একটি জলাশয়ে মা হাতি ও তার শাবককে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। জলাশয়ে হাতি আটকে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনদফতরের কর্মীরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

জলাশয়ের গভীরতা ও হাতি দু’টির অবস্থানের কারণে উদ্ধারকাজ যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে চালাতে হয়। বনকর্মীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ জলাশয় থেকে মা হাতিটিকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়। মা হাতি উঠে যাওয়ার পরও জলাশয়ের মধ্যে আটকে ছিল তার শাবক।

ফলে উদ্ধার অভিযান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মা হাতি উদ্ধার হওয়ার পর বনকর্মীরা শাবকটিকে জলাশয় থেকে বের করে আনার কাজে জোর দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর অবশেষে সফল হয় সেই প্রচেষ্টা। জলাশয় থেকে উঠে আসে শাবক হাতিটিও।

জলাশয় থেকে উঠেই শাবকটি দ্রুত ছুটে যায়। মা ও শাবক দু’টিকেই নিরাপদে উদ্ধার করতে পেরে স্বস্তি ফেরে বনদফতরের কর্মীদের মধ্যে।

এই ঘটনায় বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল মা ও শাবক হাতি। উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড়ও জমে যায়। তবে বনকর্মীদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দু’টি হাতিকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বক্সা টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মা ও শাবককে নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় হাতির চলাচল নতুন ঘটনা নয়। বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকায় হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখছে বনদফতর।

মা ও শাবক হাতি দু’টিকে উদ্ধারের পর তারা নিরাপদে জঙ্গলের দিকে চলে যায়।

জলাশয়ে পড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সফল উদ্ধারের পর শাবকের ছুটে যাওয়ার দৃশ্য ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় স্বস্তির পরিবেশ। দীর্ঘ সময়ের উদ্ধার অভিযান সফল হওয়ায় আপাতত হাঁফ ছেড়েছেন বনদফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here